শ্রেষ্ঠ সন্তানদের খেতাব কেড়ে নিলে দেশের সম্মান ভুলুণ্ঠিত হয়: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের খেতাব কেড়ে নিলে দেশের সম্মান ভুলুণ্ঠিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালের জাতীয় প্রসক্লাবের সামনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল সিদ্ধান্তের অপচেষ্টার প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ অনেক তন্ত্র আছে। হাসিনাতন্ত্র আছে, মিথ্যাতন্ত্র, লুটপাটতন্ত্র, ব্যাংক লোপাট করার তন্ত্র, জাতীয় অর্থনীতি লুটপাট করার তন্ত্র। শুধু একটি তন্ত্র নেই, সেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্রের জন্য আজকের লড়াই। এই গণতন্ত্র নেই বলে গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াবন্দি। দেশের শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।

রিজভী বলেন, আল-জাজিরা প্রচারিত খবরের কুকীর্তির ঢাকার জন্য দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানের খেতাব বাতিলের পায়ঁতারা করছে। এই খেতাব বাতিল হলে আপনি (সরকার) অপমানিত হবেন, জিয়াউর রহমানের কিছু হবে না। জিয়াউর রহমান সুপ্রতিষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা। নিজের কমান্ডারকে হত্যা করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশ ও জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আপনি সেই লোকটি অপমান করবেন? করতে পারেন কিন্তু তাতে তার (জিয়াউর রহমানের) কিছু যায় আসে না। জনগণ আপনাদের মনে রাখবে। জনগণ সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনগণের আদালত সবচেয়ে বড় আদালত। সেই আদালতের প্রধান বিচারপতি জনগণ। আমি আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীনদের বলতে চাই, জনগণের আদালতের সামনে আপনাদের দাঁড়াতে হবে, প্রস্তুত হন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গোপনে- অন্ধকারে কত অনাচার করছে সরকার। কত ধরনের অপকীর্তি করছে, কত ধরনের অন্যায় করছে। এসব করে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করেছে। কথা বলার স্বাধীনতা হত্যা করে, গণতন্ত্র হত্যা করে, খবরের কাগজ পড়া স্বাধীনতা হত্যা করে দেশ চালাতে গেলে মাফিয়া দরকার। যে সরকার মাফিয়াদের দিয়ে দেশ চালায় সে নিজে একজন মাফিয়া।

তিনি বলেন, জাতির স্বর্ণাক্ষরে জিয়াউর রহমানের নাম লেখা হয়েছে। আল-জাজিরা প্রতারিত সংবাদ থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এখানে কিন্তু অন্য কোনো কারণ নেই। আল-জাজিরা থেকে দৃষ্টি এদিকে নিয়ে আসার জন্য এসব করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে নেয়াখালীতে ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীতে দুটি গ্রুপ তৈরি করে রেখেছেন। সেখানে তার ভাই মির্জা কাদেরের আন্দোলনে নিরীহ সাংবাদিক মুজাক্কিরকে প্রাণ দিতে হলো। এই হত্যাকাণ্ডের দায় প্রধানমন্ত্রীর। এই হত্যার দায় ওবায়দুল কাদেরের । তবুও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। ওদের সমস্ত লজ্জা শরম ধুয়ে মুছে নিচে ফেলে দিয়েছে।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আবদুস সালামের পরিচালনায় আরও অংশগ্রহণ করেন ড্যাবের সহসভাপতি ডা. সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মেহেদী হাসান, যুগ্ম মহাসচিব ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ প্রমুখ।