বিএনপিতে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান



লুৎফে আলি মহব্বত, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ইশরাক, শামা ওবায়েদ, মীর হেলাল

ইশরাক, শামা ওবায়েদ, মীর হেলাল

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপিতে উত্থান ঘটছে তরুণ নেতৃত্বের। নেতাদের সাথে বাসায় বাসায় লবিং করা আর ক্যামেরায় মুখ দেখানোর কালচারের বাইরে এদের অবস্থান। কর্মী-সমর্থকদের আস্থায় ভাসছেন এমন কয়েকজন তরুণ নেতার কথা বিএনপি মহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।

স্থবির ও গুটিয়ে যাওয়া বিএনপির আন্দোলন হঠাৎ চাঙ্গা হওয়ার পেছনে এসব তরুণ নেতার ভূমিকাকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলের একাধিক সূত্র। মাঠ পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করতেও অগ্রণী অবস্থান তাদের। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিকে সফল করতে উদ্যোগী রয়েছেন এইসব তরুণ নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির একাধিক সূত্র বার্তা২৪.কমকে জানায়, সাম্প্রতিক অতীতে বিএনপির কার্যক্রম প্রতীকী আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কয়েকজন মুখচেনা নেতার প্রতিদিন ব্যানার হাতে এতিমের মতো দাঁড়িয়ে থাকা দেখে মনেই হতো না বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান গণসংগঠন। সে অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিএনপি।

সূত্র জানায়, 'এইক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন কয়েকজন তরুণ নেতা। যাদের মধ্যে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, ব্যারিস্টার মীর হেলাল ও শামা ওবায়েদ।'

ইশরাক ঢাকার পাড়ায়-মহল্লায় কাজের পাশাপাশি বিএনপির দেশব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কর্মী-সমর্থকদের বিপদে ছুটে যাচ্ছেন। রাজধানীতে বিএনপির রাজনীতিতে বিরাজমান শূন্যতা অনেকাংশে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী এমন তথ্য জানিয়েছেন।

মীর হেলাল কেন্দ্রীয়ভাবে কাজের পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় প্রধান মহানগর চট্টগ্রামে বিএনপির তৎপরতাকে শক্তিশালী করতে দিনরাত কাজ করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রতিদিন নানা কর্মসূচিতে তাকে সরব দেখা যাচ্ছে।

শামা ওবায়েদ বিএনপির পক্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের সাংগঠনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের সংগঠিত করার কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন এবং ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র বার্তা২৪.কমকে জানায়, 'পারিবারিকভাবে বিএনপির দলীয় রাজনীতির অংশীদার এসব তরুণ নেতা তৎপর হওয়ায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছেন।'

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি ও যুবদলের একাধিক সূত্র বার্তা২৪.কমকে জানায়, 'বিএনপির অবক্ষয়ের প্রধান কারণ নেতৃত্বের শূন্যতা। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেকের নামই কর্মী-সমর্থকদের অজানা। কখনো চেহারা দেখা যায় না, এমন নেতাই দলে বেশি। তাছাড়া টকশো করে ও মিডিয়ার মুখ দেখিয়ে বহুজন দলের পদপদবী বাগিয়ে বসে আছেন। এদের দ্বারা দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পায়নি এবং আন্দোলনের গতি আসে নি।'

'আন্দোলনের মাঠ থেকে যেসব তরুণ নেতার উত্থান হচ্ছে, তাদের প্রতিই দলের তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের আস্থা রয়েছে। যার প্রতিফলন সাম্প্রতিককালে রাজনীতির মাঠে দেখা যাচ্ছে' বলেও মনে করেন বিএনপি সংশ্লিষ্টরা।