কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু অনভিপ্রেত: তথ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগাম
তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। ছবি: বার্তা২৪.কম

তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু অনভিপ্রেত বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমিও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের কোনও গাফেলতি ছিল কি-না সেটা খুঁজে দেখা যেতে পারে।’

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তথ্যমন্ত্রী তার চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুরপাড়স্থ বাসভবনে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে  তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা।

প্রশ্নের জবাবে হাসান মাহমুদ বলেন, ‘দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার যাতে না হয়  সেজন্য আমরা সচেতন আছি। বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যাতে এই আইনের অপব্যবহার না হয়-  সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয় ও আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় সচেতন আছি। কোনও জায়গায় এধরণের ঘটনা ঘটলে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে বাংলাদেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। ডিজিটাল বিষয়টা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে ছিল না। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিলনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে যখন একজন সাংবাদিকের চরিত্র হনন করা হয়, একজন গৃহিনীকে যখন অপবাদ দেয়া হয়, একজন সাধারণ মানুষ যখন ডিজিটাল আক্রমণের শিকার হন, তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন, তখন কোন আইনের বলে সে নিরাপত্তা পাবে, সেজন্য একটা আইনের দরকার। এই জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবর দেয়া উচিৎ ডা. জাফরুল্লাহ’র এমন বক্ত্যব্যের প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ তো নানা কথা বলেন। যেমন করোনার টিকার বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার ছিলেন, আবার নিজে করোনার টিকা নিয়ে বলেছেন, এই টিকা সবার নেয়া উচিত। সুতরাং আজকে জাফরুল্লাহ সাহেব যে কথা বলেছেন দুদিন পর দেখবেন নিজের কথার বিপরীতে তিনিই আবার অন্য সুরে কথা বলবেন। সুতরাং এটার উত্তর দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

এছাড়া বিডিআর হত্যাকান্ডের দিনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্ট ছাড়ার বিষয়ে পশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘যিনি বেলা ১২টার আগে ঘুম থেকেই উঠেন না, তিনি কেন সেদিন প্রত্যূষে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে চলে গিয়েছিলেন? তিনি কেন সেদিন তারেক রহমানের সাথে ৩০-৪০ বার কথা বলেন? এই রহস্যগুলো বের হওয়া প্রয়োজন। তাহলেই মুখোশ উন্মোচিত হবে কারা এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল।'

হাসান মাহমুদ বলেন, 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তখন সদ্য সরকার গঠন করেছিল, দুইমাসও পূর্তি হয়নি, প্রায় দেড় মাসের মাথায় এই হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছিল আর এই হত্যাকান্ড সংগঠনের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অস্থিতিশীল করা।'

তিনি বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকান্ডের বিচার ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে নয় শুধু পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নিরিখেও এতবড় একটি হত্যাকান্ডের এতগুলো আসামির বিচার কম হয়েছে। আমাদের দেশের ইতিহাসেও এতজন আসামির বিচার আর হয়নি। বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও এতগুলো আসামির বিচার কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের মামলার বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে মামলা যে কেউ করতে পারে, মামলা করার অধিকার সবারই আছে, তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে বিএনপিকে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডা. শাহাদাতকে আমি অনুরোধ জানাবো তার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রশ্ন রাখার জন্য, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুস্থ-সবল থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ চট্টগ্রামে আসলেন না কেন। এমনকি চট্টগ্রামে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় নেতা আছেন, তারাও কিন্তু নির্বাচনের সময় তার পক্ষে নামেননি। আমির খসরু মাহমুদকে দুয়েকবার দেখা গেলেও তা প্রেস কনফারেন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তার দলের স্থানীয় নেতারাও প্রথমে কিছুটা সরব থাকলেও পরবর্তীতে তারা ঘরের মধ্যে চলে যান।’