কাপাসিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার প্রবাসীর স্ত্রী, গ্রেফতার ৭



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাজীপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মোবাইল উপহার দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (২৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে ওই নারীর মা বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের পর বেলা সাড়ে ১২টায় মামলা (নম্বর-১৬) রেকর্ড হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের নবীপুর (করিম মেইল) এলাকায় এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

আসামিরা হলেন- উপজেলার তরগাঁও পূর্বপাড়া এলাকার মোস্তাফা বেপারীর ছেলে রুমান বেপারী (১৯), তরগাঁও বোয়ালের টেক এলাকার মহসিন বেপারীর ছেলে জোবায়ের বেপারী (১৯), একই এলাকার মফিজ সরদারের ছেলে মোস্তারিন সরদার (১৯), তরগাঁওয়ের এহসান বেপারীর ছেলে সাহাবুল হোসেন সাকিব (২২), মৃত সফুর উদ্দিনের ছেলে মাসুম শেখ (২১), সামসুল হকের ছেলে রাকিব হোসেন (২০), বাদল মোড়লের ছেলে মাহফুজুল (২০), চরখামের এলাকার আইন উদ্দীনের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (২৮)।

এদের মধ্যে ঘটনার মূল হোতা সাখাওয়াত ছাড়া বাকি সাতজনকে গতরাতেই অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে নরসিংদীর মনোহরদী থানার বীর আহাম্মদ এলাকার এক প্রবাসীর সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ওই নারী তরগাঁওয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরে পূর্বপরিচিত সাখাওয়াত একটি মোবাইল উপহার দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ফোনে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৫টার দিকে নবীপুর নরাইদ্দার টেক নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে চকের মাঝখানে কড়ই গাছের নিচে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাখাওয়াত তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি আড়াল থেকে দেখে ফেলে মাসুম। পরে ওই নারী ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পথে সব আসামি তাকে ঘিরে মারধর করে। এক পর্যায়ে ধানখেতে নিয়ে রোমান, জোবায়ের ও মোস্তারিন তাকে পালাক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করে। অপরদিকে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সাকিব, মাসুম ও মাহফুজুল ওই নারীর মার কাছে ফোনে ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশকে জানান বাদী।

কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসাইন জানান, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সাখাওয়াতের ২-৩ মাস ধরে নিয়মিত ফোনে কথা হতো। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে গতকাল দেখা করে। এরপর এ ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, আজ বিকেল ৪টার দিকে আসামিদের গাজীপুর আদালতে ও ধর্ষণের শিকার নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।