শিল্প এবং ট্রান্সপোর্ট সুস্থ রাখতে ভালো লুব্রিকেন্ট জরুরি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভার্চুয়াল সেমিনার

ভার্চুয়াল সেমিনার

  • Font increase
  • Font Decrease

ফুড ও মেডিসিনের পরেই লুব্রিকেটিং অয়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প এবং ট্রান্সপোর্ট খাতকে সুস্থ রাখতে নির্ভেজাল লুব্রিকেন্ট জরুরি। মান নিয়ন্ত্রণে রেগুলেটরি বডির সক্ষতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। বিইআরসি ঠুঁটো জগন্নাথ, তাদের না আছে লোকবল না আছে ল্যাবরেটরি।

শনিবার (২১ নভেম্বর) এনার্জি এন্ড পাওয়ার আয়োজিত ‘স্থানীয় লুব্রিকেন্ট শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে এমন মতামত উঠে এসেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ফুড মেডিসিনের পরেই লুব্রিকেটিং অয়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটা সাংঘাতিক ক্রিটিক্যাল। এটি ভালো না হলে ইঞ্জিন সিজ করবে, কুলিং কম হবে অনেক সমস্যা হতে পারে। আমি অবাক সরকার কেনো এদিকে নজর দিচ্ছে না। আমাদের এলপিজি, সিমেন্টসহ সব জায়গায় কামড়াকামড়ি চলছে। প্রত্যেকটি শিল্পে এটি ঢুকে গেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে রেগুলেটর নিজে ব্যবসায় ঢুকে গেছে। লুব্রিকেটিং অয়েল সেক্টরের একই সমস্যা দেখছি। স্ট্যান্ডার্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো ল্যাবরেটরি নেই।

এনার্জি এন্ড পাওয়ারের এডিটর মোল্লাহ আমজাদ হোসেন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, জাতি হিসেবে ট্রেডিং প্রিয়। লুব্রিকেন্ট অয়েলের চাহিদা ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন, মার্কেট সাইজ পাঁচ হাজার কোটির টাকার মতো। ছোট্ট মার্কেট কিন্তু দুনিয়ার এমন কোনো জ্ঞাত ব্রান্ড নেই যা পাওয়া যায় না। অনেক আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডের লুব তৈরি হচ্ছে দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব। বাংলাদেশের বাজার আমদানি নির্ভর হলো কেনো! বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভেজাল ও মানহীন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। অনেক সময় বেজড অয়েলের চেয়েও কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। শিল্প এবং ট্রান্সপোর্ট খাতকে সুস্থ রাখতে লুব্রিকেন্ট জরুরি। দুনিয়াশুদ্ধ ল্যাব শেয়ারিং কালচার চালু রয়েছে। আমাদের এখানেও এটি হতে পারে।

এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কনসালটেন্ট এডিটর প্রকৌশলী খন্দকার সালেক সুফী বলেন, বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডগুলো আপডেট করা হয়নি। তিনটি রেগুলেটর এর মধ্যে একটি নিজে একজন বিক্রেতা। বিএসটিআই মান সেট করে দিতে পারে। সাব-স্ট্যান্ডার্ড কেউ আনলে পুলিশিং করতে হবে।

লুব র‌্যাফ অয়েল লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বাজারের যে চাহিদা দুই কোম্পানি সাপ্লাই দিতে পারে। বিপিসিকে নতুন করে আমদানির জন্য টেন্ডার কল করেছে। আমদানি করার আগে যেখান থেকে আনতে চায় তাদের ও আমাদের প্লান্টগুলো ভিজিট করে দেখুক। আমাদের সক্ষমতা কতটুকু। বিপিসি যে পলিসি নিয়েছে আত্মবিধ্বংসী পলিসি হবে। ব্রাজিলে আর আমদানি করা হয় না। রিফাইনিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করছে। কোম্পানিগুলো যে চ্যানেল দিয়ে বিক্রি করছে, সেই চ্যানেল দিয়ে ব্যবহৃত লুব সংগ্রহ করা যায় কি না।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ খালেদ বলেন, আন্ডার ইনভয়েসে এনে মার্কেটে কারসাজি চলছে। এখন ট্যারিফ ভ্যালু করা হয়েছে ২ হাজার ডলার। আমাদের নিজেরা আড়াই হাজার ডলার দিয়ে আমদানি করছি। অনেক সময় দুবাই থেকে আমাদের প্রোডাক্ট এনে কম দামে বিক্রি করছে। রিসাইকেল অয়েলের জন্য তিনটি ব্যান্ডিং প্লান্টকে অনুমোদন দিয়েছে। এর বাইরে ভুঁইফোড় ৩০টি মতো রয়েছে এরা জাহাজ, পাওয়ার প্লান্ট, ট্রান্সফরমার ওয়েল এক ড্রামে রেখে ব্লিসিং পাউডার দিয়ে রেখে দিচ্ছে। জমে গেলে ওপর থেকে বিক্রি করছে। এতে কোয়ালিটি থাকছে না, মেশিন লাইফটাইম হারাচ্ছে। রেগুলেটরি বডি বিইআরসি ঠুঁটো জগন্নাথ, তাদের না আছে লোকবল না আছে ল্যাবরেটরি।

বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. বায়েজিদ কবীর বলেন, নিজস্ব কাঁচামাল নেই লুবের। এই সেক্টরের বড় সমস্যা। নতুন নতুন টেকনোলজি আসছে, স্ট্যান্ডার্ডগুলো সেভাবে আপডেট করা হয়নি। কাস্টমস থেকে কিছু টেস্টিংয়ের জন্য আসে এটি অনেকটা অনুরোধে ঢেঁকি গেলানোর মতো। প্রপার ওয়েতে কালেন্ট করে রিসাইকেল করা গেলে ৬০ শতাংশ চাহিদা পুরণ করা সম্ভব। এতে দুইভাবে উপকার পাওয়া যাবে, এক ফরেন কারেন্সি সেভ হবে, অন্যদিকে নিম্নমানের প্রোডাক্ট কমে যাবে।

এমজেএল লুব্রিকেন্ট’র সিইও মুকুল হোসেন বলেন, হায়ার ভ্যালু ব্র্যান্ডের ড্রামে লোকাল ব্র্যান্ডের লুব করা হচ্ছে। এখানে কালো টাকা সাদা করার জন্য বিনিয়োগ হচ্ছে। বিপিসি, বিএসটিআই ও বিইআরসি, নখ-দন্তহীন বাঘ। ট্রেস্টিং করার মতো দক্ষতার অভাব রয়েছে। বুয়েটে রেজাল্ট ভিন্ন আসে।

বিপিসি ৫ হাজার ৪’শ টন আমদানির জন্য যেভাবে টেন্ডার কল করেছে, তাতে মনে হচ্ছে একটা কিংবা দু’টি পার্টিকে কাজ দেওয়ার জন্য টেন্ডার করেছে। মালয়েশিয়া এবং দুবাইকে কাজ দেওয়ার জন্য এমন কিছু শর্ত যুক্ত করেছে।