১০৫০ কোটি টাকা ও ২ শতাধিক প্লটের মালিক গোল্ডেন মনির



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
১০৫০ কোটি টাকা ও ২ শতাধিক প্লটের মালিক গোল্ডেন মনির

১০৫০ কোটি টাকা ও ২ শতাধিক প্লটের মালিক গোল্ডেন মনির

  • Font increase
  • Font Decrease

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গাড়ি ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরকে আটক করেছে র‌্যাব। শনিবার (২১ নভেম্বর) সকালে এক অভিযানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়।

মনির হোসেন নব্বই দশকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছেন। সেখান থেকে অপরাধ জগতে পা রেখে হয়ে উঠেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু। এক পর্যায়ে স্বর্ণ চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িযে ‘গোল্ডেন মনির’ নামের খেতাব পান।এখন তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ এক হাজার ৫০ কোটি টাকার বেশি। ঢাকার শহরের ডিআইটি প্রোজেক্ট, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা এবং কেরানিগঞ্জে তার ২০০’ র বেশি প্লট রয়েছে।

মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের ১১ নম্বর সড়কে গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান শেষে এক ব্রিফিং-এ র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এসব তথ্য জানান।

গোল্ডেন মনিরের বাসা থেকে উদ্ধারকৃত টাকা ও স্বর্ণ

র‌্যাবের পরিচালক বলেন, গ্রেফতারকৃত গোল্ডেন মনির নব্বই দশকে গাউছিয়ায় একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। এরপর ক্রোকারিজের ব্যবসা, লাগেজ ব্যবসা-অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে মালামাল দেশে আনতেন। একপর্যায়ে স্বর্ণ চোরাকারবারের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ তিনি বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছেন। তার স্বর্ণ চোরাকারবারির রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত। এই সকল দেশ থেকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বাংলাদেশে আমদানি করতেন। যার ফলশ্রুতিতে তার নাম হয় গোল্ডেন মনির।

গোল্ডেন মনিরের বাসায অভিযান

স্বর্ণ চোরাকারবারির জন্য তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয় বলে জানান তিনি।

স্বর্ণ চোরাচালানের পাশাপাশি একপর্যায়ে গোল্ডেন মনির ভূমিদস্যুতে পরিণত হন। এ প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, গোল্ডেন মনিরের আরেকটি পরিচয় আছে তিনি ভূমিদস্যু। রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকার শহরের ডিআইটি প্রোজেক্ট, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা এবং কেরানিগঞ্জে তার ২০০’ র বেশি প্লট আছে বলে আমরা জানত পেরেছি। ইতিমধ্যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ৩০টি প্লট রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। রাজউকের কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে এবং স্বর্ণ চোরাকারবারি করে তার মোট সম্পদের পরিমাণ এক হাজার ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে।

মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ এবং প্রায় ৯ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। তার বাসা থেকে আট কেজি স্বর্ণ, নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা, ৫টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।