ডিএনএ টেস্টই কাল হলো মৃত নারীর ধর্ষক মুন্নার!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মৃত নারীর ধর্ষক মুন্না

মৃত নারীর ধর্ষক মুন্না

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর সরকারি একটি হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য রাতে যেসব মরদেহ এনে রাখা হতো তা পাহারা দিতেন মুন্না ভগত (২০)। ঢাকায় বাড়ি ঘর না থাকায় রাতে মর্গেই ঘুমাতেন তিনি। এরই এক পর্যায়ে দুই তিন বছর ধরে মাথায় বিকৃত চিন্তার বশবর্তী হয়ে ধর্ষণ করতেন ১১-২০ বছর বয়সী তরুণীদের মরদেহ। ওইসব মরদেহের ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বুঝতে পারে এ কাজের সাথে জড়িত মুন্না।

জানা গেছে, ওই হাসপাতালের প্রধান ডোম জতন কুমার লালের আপন ভাগ্নে মুন্না তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে তাদের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে বেসরকারি ওই হাসপাতালের মর্গ থেকে মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, আত্মহত্যায় বা হত্যার পর নিহতদের আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল তৈরি করে আসছে সিআইডি। ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে আসা কিছু আলামতের মধ্যে HVs (হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব) বা পুরুষ বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় সিআইডির কর্মকর্তারা আসল ঘটনা জানতে তদন্ত শুরু করেন। মোহাম্মদপুর এবং কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনার পরে পাওয়া আলামতের ডিএনএ গবেষণা করে সবগুলোতে একই ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া যায়। 

সিআইডি জানান, ডোম সহযোগী মুন্না ভগত দুই-তিন বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন। নিহত কোনো তরুণীর মরদেহ যে রাতে আসত সে ওই রাতেই লাশটি ধর্ষণ করতেন। পরদিন সেই লাশগুলো কাটা হতো। বয়ষ্ক নারী বা পচা মরদেহে হাত দিতেন না মুন্না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মৃত তরুণদের ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন মুন্না ভগত। মরদেহ ধর্ষণের বিষয়টি তার কাছে অতিসাধারণ। এখনো এটিকে বড় কোন অপরাধ বলে মনে করেননি মুন্না।

সিআইডি পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, অধিকতর তদন্তে আত্মহত্যায় মৃত্যু লাশের ময়না তদন্তের আগে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। তদন্তের এক পর্যায়ে মুন্নার ডিএনএর সঙ্গে সিআইডির প্রোফাইলে সংরক্ষিত থাকা ধর্ষণের স্বীকার লাশের ডিএনএর নমুনা পাওয়া যায়। 

সিআইডি জানায়, মৃতদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা একটি মানসিক রোগ। এই ধরনের রোগকে চিকিৎসা নেক্রোফিলিয়া বলা হয়ে থাকে।