শীত বিদায়ে বসন্তের আগমন বার্তা



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শীত বিদায়ে বসন্তের আগমন বার্তা

শীত বিদায়ে বসন্তের আগমন বার্তা

  • Font increase
  • Font Decrease

শেলী (১৭৯২-১৮২২) উনিশ শতকের প্রথম দিকের একজন প্রসিদ্ধ ইংরেজি কবি। বলেছিলেন 'শীত এলে বসন্ত খুব বেশি দূরে থাকে না'। সেই শীত বিদায় নিচ্ছে বসন্তের আগমনে। অতিথি পাখির দল ফিরে যাচ্ছে ঝরা পালকের স্মৃতিচিহ্ন রেখে।

শেলী ' Ode to West Wind' শিরোনামের দীর্ঘকবিতার এক জায়গায় বলছিলেন, “If Winter comes, can Spring be far behind?" ইংরেজ সাহিত্যে রোমান্টিক আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কবি ইতালি উপকূলে একটি নৌকা দুর্ঘটনায় মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে অকাল মৃত্যুবরণ করেন।

শেলীর মৃত্যু হলেও তার অমর কবিতাটি মানুষের মুখে মুখে ফিরে। শীত আর বসন্তের সন্ধিক্ষণে কবিতাটি দোলা দেয় রোমান্টিক আবহে। যে নস্টালজিক আবাহনে আসে শীত, তা যখন রোমান্টিক ঋতু বসন্তে বিলীন হয়ে যায়, তখন শুধু প্রকৃতি বা পরিবেশে নয়, মানুষের মনে মনে অনিন্দ্য দোলা লাগে।

ক্যালেন্ডারে শীত আসার আগেই গত কয়েকদিনে বেড়েছে তাপমাত্রার পারদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রীতিমত গরম অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনও একই আবাহওয়া থাকবে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। অর্থাৎ ঠান্ডার আমেজ আর থাকবে না। কার্যত, বসন্তের ছোঁয়ায় বিদায়ের পথে শীত।

শেলী যেভাবে পশ্চিমা বাতাসের কাব্যকথা উচ্চারণ করেছিলেন, বাংলাদেশে তেমন হয়না ঋতুচক্রের কারণে। বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর থেকে দখিনা বাতাস এসে জানান দেয় বসন্তের। হিমালয়স্পর্শী উত্তরের শীতার্ত বাতাসের হীমেল দিনও শেষ। পেলব দখিনা হাওয়া গুঞ্জরিত হতে শুরু করেছে ক্রম-উষ্ণ চারপাশে।

বাংলাদেশের ঐশ্বর্যময় নানা ঋতুর কথা মনে রেখেও বসন্তকে ভালোবেসে সবাই ডাকে ঋতুরাজ। রঙ, গন্ধ, বর্ণ আর আবেগে উচ্ছ্বসিত বসন্ত। ফাল্গুন আর চৈত্র মাসে বাসন্তি আবহে অপার বৈভবে উন্মাতাল হয় চিরায়ত বাংলা, বাঙালি।

করোনাদগ্ধ শীত পেরিয়ে নবজীবনের কলতানে, সুরে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বসন্ত বৈশ্বিক মহামারি পেরিয়ে যাওয়ার প্রতীতি ও প্রত্যয় জাগ্রত করুক। 'আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে' বলতে বলতে নতুন জীবনের মুগ্ধ প্রাণাবেগে জাগুক মানুষ, প্রকৃতি ও সারা পৃথিবী।