নারীর কাজে ফেরার চ্যালেঞ্জ



মো. কামাল হোসেন
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাকালে ভয়াবহ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ধর্ষণ। এর ব্যাপকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছেন সচেতন মহল। সরকারও জনসাধারণের আবেগকে ধারণ করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশ জারি করেছে। সংবাদপত্রের সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে চাকরি দেওয়া কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার নারী কিংবা কিশোরীদের অভিযোগ থেকে প্রতীয়মান হয়েছে চাকরি কিংবা জীবনে সচ্ছলতার আশ্বাস দিয়ে তাদের সর্বনাশ করা হয়েছে—ঠেলে দেওয়া হয়েছে নারীকে চরম অপমানের দিকে।

ঘটনাগুলো কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন নয়। চলমান বিপর্যয়ের সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকারত্বের সম্মুখীন হচ্ছে, কিংবা অভাব-অনটন ঘুচাতে চাকরির সন্ধান করেও পাচ্ছেন না। আর এদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে নারী ভুক্তভোগীর সংখ্যাই বেশি।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। কিন্তু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে বরাবরই নারীরা অনেকটা পিছিয়ে। করোনাকালে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কর্মজীবী নারী। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশে নারীদের সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ছিলো তৈরি পোশাক খাত, হোটেল রেস্তোরাঁসহ সেবা খাত, আবাসন, কৃষিখাত এবং গৃহকর্মী হিসেবে। করোনা নারীদের এই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলো ওলট পালট করে দিয়েছে। চাকরি হারানোর পাশাপাশি নারীরা সহিংসতারও শিকার হচ্ছেন। করোনাকালে নারীদের প্রতি অর্থনৈতিক চাপ ও পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে ব্যাপক মাত্রায়।

করোনা সংকটে নারী-পুরুষ উভয়েই কাজ হারালেও পুরুষের চাইতে নারী কর্মজীবীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ, পুরুষরা দ্রুত অন্যত্র কাজ খুঁজে নিলেও নারীর ক্ষেত্রে এ সুযোগ কম। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীরা কাজ হারিয়েছেন বেশি। মহামারিতে এসব খাতে কর্মরত নারীরাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে পোশাক খাত এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর শ্রমিক, প্রবাসী নারী শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষি ও গৃহকর্মে জড়িত নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণায় বলা হয়, করোনায় নারী নেতৃত্বাধীন পরিবারের আয় কমেছে ৮০ শতাংশ। মে মাসে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থাটির গবেষণায় বলা হয়, মহামারিতে নারীপ্রধান পরিবারের ৫৭ শতাংশেরই কোনো উপার্জন নেই। এছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট (স্টেপস) এবং জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্সের (গ্যাড অ্যালায়েন্স) তথ্যানুযায়ী লকডাউনের সময় থেকে ৮০ শতাংশ গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তাদের চলমান ব্যবসা বা উদ্যোগ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এমনকি করোনায় নারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও।

পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী মহামারিতে পোশাক খাতের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। বেসরকারি খাতে কর্মরত নারী কর্মকর্তাদের কেউ কেউ চাকরি হারিয়েছেন। কারও কারও বেতন কমানো হয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা পুঁজি হারিয়েছেন। এ অবস্থায় অনেক গৃহকর্মী ভিক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব নারী সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী তারা গোটা পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই শহর ছেড়েছেন—ফিরে গেছেন গ্রামে। গ্রামে ফিরেও সংসারের অভাব মোচন হচ্ছে না। অনেক নারীর কাজ বাজার নির্ভর। তারা বাজারে গিয়ে নিজেদের পণ্য বিক্রি করেন। কিন্তু মহামারির ফলে বাজার নির্ভর সেই অর্থনীতি কমে গেছে। ফলে যেসব নারীর জীবিকা বাজার নির্ভর অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল ছিল তারা উপার্জন করতে পারছেন না। এ ছাড়া যেসব নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা ছিলেন তারা নিজেদের আয় দিয়ে ব্যবসা চালাতেন। কিন্তু আয় ও ব্যবসা চালানোর চক্রাকার ব্যবস্থাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসাও নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে এ উদ্যোক্তাদের পুঁজিও।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি নারীদের ক্ষমতায়নের পথিকৃৎ। ১৯৬৭ সালে মহিলা লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু নারীদের মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র ও গণজীবনের সব পর্যায়ে নারীদের সম অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয় এবং নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে রাষ্ট্রের বিশেষ বিধান প্রণয়নের ক্ষমতাও সংযোজন করা হয় (অনুচ্ছেদ ২৭ ও ২৮)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরপরই লিঙ্গ সমতা, নারীর উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করেন এবং বাস্তবিক অর্থে তা সুসংহত ও কার্যকর করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।

বর্তমান বিশ্বে চাকরির বাজারে নারীদের অবস্থান বেশ নাজুক ৷ করোনা সংকটের কারণে সেই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে-এমনটাই জানিয়েছে জাতিসংঘের সদ্য প্রকাশিত এক রিপোর্ট ৷ জাতিসংঘের দ্য ওয়ার্ল্ডস উইমেন ২০২০ এর রিপোর্টে বলছে, বিশ্বব্যাপী চাকরিক্ষেত্রে নারী অধিকার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে ধীর গতিতে ৷ চাকরির বাজারে নারীদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে ৷ তথ্য উঠে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকায় চাকরিক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ৩০ ভাগ ৷

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের নতুন উপাত্ত বলছে, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির জেরে চরম দারিদ্র্য বাড়বে। নারী দরিদ্র হবেন বেশি। কাজের সুযোগ, আয়, স্বাস্থ্য, অবৈতনিক শ্রম এবং সহিংসতা--সব দিক দিয়ে নারীর অবস্থান আরও নাজুক ও অসম হবে। নারী পুরুষের সমতা যেটুকু অর্জিত হয়েছে, তা ঝুঁকিতে পড়বে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আয় ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই ক্ষমতায়ন সৃষ্টি হয়। তাই আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।’ ২০৪১ সাল নাগাদ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৫০-৫০ এ উন্নীত করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে তাদের চাকরি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জেন্ডার সমতা, ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার নবায়ন ও প্রচেষ্টা জোরদারেরও আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীদের বাস্তবসম্মত প্রয়োজন পূরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উন্নয়নে সমাজের সব স্তরের সব ধরনের মানুষকে অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স অনুসারে, নারীদের সামগ্রিক ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৪৯টি দেশের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পঞ্চম স্থানে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ণে সপ্তম স্থানে রয়েছে দেশটি।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের (ডিআইএফই) দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর ১৫ হাজার ৯৬৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় কাজ হারিয়েছেন সাড়ে ১০ লাখ শ্রমিক। বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানা ১ হাজার ৯১৫টি। তৈরি পোশাক খাতে দেশে বর্তমানে ৪২ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। এর ৮০ শতাংশই নারী। এ হিসেবে ধরে নেওয়া যেতেই পারে বন্ধ হয়ে যাওয়া পোশাক কারখানাগুলোর বেকার শ্রমিকের সিংহভাগই নারী। বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগও বলছে, করোনার কারণে সারা দেশের গার্মেন্ট কারখানা থেকে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, যার ৭০ শতাংশ নারী। কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশে ফিরে আসা প্রবাসী নারী শ্রমিকরাও। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ থেকে কাজ হারিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন ২৫ হাজারের বেশি নারী। পোশাক খাতের পর বেশিসংখ্যক নারী গৃহকর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কেউ কেউ ছোট হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁয়ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) হিসাব বলছে, দেশে গৃহশ্রমিক ২৫ লাখের বেশি। ৪ লাখের বেশি গৃহশ্রমিক শিশু, যার ৮৩ শতাংশ মেয়ে। করোনা সংকটের মধ্যে অনেক পরিবার নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে ও টাকা বাঁচাতে এসব গৃহকর্মীকে কাজে আসতে বারণ করেছে। ফলে এ খাতে কর্মরত অনেক নারীও বেকার হয়ে পড়ছেন। মহামারিতে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন নতুন-পুরান নারী উদ্যোক্তারাও। দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মোট উদ্যোক্তা রয়েছেন ৭৮ লাখ, যার ৪০ শতাংশই নারী। কিন্তু করোনার ফলে এদের মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশের ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নারী উদ্যোক্তার একটা বড় অংশ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু করোনার মধ্যে কৃষিপণ্য বিপণনে সীমাবদ্ধতার জন্য তাদের পক্ষে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের আরেকটি বড় খাত হলো বিউটি পারলারের ব্যবসা। এ খাতে সারা দেশে লাখ লাখ নারী কর্মরত ছিলেন। কিন্তু করোনায় ক্রেতা না থাকায় অনেক নারী উদ্যোক্তাই ক্ষতির মুখে এ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। বড় যেসব পারলার এখনো ব্যবসা ধরে রেখেছে তারা কর্মী ছাঁটাই করে স্বল্প লোকবল দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। করোনায় কর্ম হারিয়ে পুরুষের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কর্মজীবী নারী। আর প্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীরাই কাজ হারিয়েছেন বেশি। করোনায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নারী উদ্যোক্তারাও। তবে আশা জাগানিয়া সংবাদ হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশে অনেক নারী উদ্যোক্তা করোনাকালে অনলাইন প্লাটফর্ম-কে ব্যবহার করে নতুন করে ব্যবসাকে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। ক্রেতা অনলাইনে পণ্য দেখে অর্ডার করছেন এবং সময়মতো পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধ করছেন। করোনাকালে অনলাইনে পণ্য ক্রয় বিক্রয় সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও বিস্তৃত হয়েছে। প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন করোনাকাল আমাদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে বরণ করার প্রাথমিক স্টেজ হিসেবে একটি বার্তা দিয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ বেকার হয়েছে। স্থবির হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক লাখ কোটি টাকার বেশি ১৯টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রফতানিমুখী শিল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কীম, দুই হাজার কোটি টাকার নতুন কর্মসৃজন যা থেকে নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবে। এছাড়া প্রান্তিক আয়ের মানুষের জন্য দুই হাজার পাঁচশ কোটি টাকার বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, বারোশত কোটি টাকার নগদ অর্থ বিতরণ, গৃহ নির্মাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রণোদনা প্যাকেজ --যার বেশিরভাগ উপকারভোগী নারী।

এছাড়াও দুস্থ, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য বর্তমান সরকারের বহুমুখী প্রকল্প চালু আছে; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো--ভিজিএফ, ভিজিডি, দুস্থ ভাতা, মাতৃত্বকালীন ও গর্ভবতী মায়েদের ভাতা, অক্ষম মা ও তালাকপ্রাপ্তদের জন্য ভাতা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, আমার বাড়ি-আমার খামার প্রকল্প ইত্যাদি। প্রান্তিক নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য চালু হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক; মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিমের আওতায় গর্ভধারণ থেকে প্রসবকালীন সব খরচ, এমনকি যাতায়াত খরচও এখন সরকার বহন করে।

কোনো দেশ যখন বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তখন প্রয়োজন হয় শক্ত, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের। আমাদের সৌভাগ্য আমরা সেই যোগ্য নেতৃত্ব পেয়েছিলাম। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, ২০২০-এ বাংলাদেশের অর্থনীতি দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম। অর্থনৈতিক অর্জন এবং সাম্প্রতিক করোনা মোকাবিলায় সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা হচ্ছে। তাঁর হাত ধরেই আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় শুধু দেশ নয়, বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই এর ৫ নম্বর লক্ষ্য (জেন্ডার সমতা এবং সব নারী ও কিশোরীর ক্ষমতায়ন) অর্জনে সাফল্য অর্জন করতে হবে। তা না হলে এসডিজির অন্য লক্ষ্যগুলোর অর্জন ব্যাহত হবে, যেহেতু দেশের ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীই নারী। সে কারণে নারীদের পেছনে ফেলে এ অর্জন সম্ভব নয়। নানা প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকা এ অঞ্চলের নারীদের স্বভাবজাত। করোনাকালে কাজ হারানো নারীরা কাজে ফেরার চ্যালেঞ্জেও নিশ্চয় বিজয়ী হবেন। সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা নারীর কাজে ফেরার গতিকে ত্বরান্বিত করবে । করোনাকাল ও করোনা পরবর্তীকালে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে নারীর কর্মসংস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে।