নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগে বেরোবি শিক্ষিকার শাস্তি



বেরোবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
অধ্যাপক মৌটুসী রায়

অধ্যাপক মৌটুসী রায়

  • Font increase
  • Font Decrease

উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শিক্ষার্থীদের কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মৌটুসী রায়কে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সর্বশেষ) ৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বার্তা২৪.কম-কে নিশ্চিত করেছেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সরিফা
সালোয়া ডিনা।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম (সিন্ডিকেট) এর ৭৬তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই শিক্ষিকা বিভাগের কোন পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যোগ দিতে পারবেন না।

জানা যায়, চলতি মাসের ৮ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি বিভাগের (২০১৪-১৫) ৭ম ব্যাচের (Translation studies) কোর্সের ‘Continuous assesment’ টেস্টের ৫০ নম্বরের ফলাফল অনলাইন প্লাটফর্মে প্রকাশ করে মৌটুসি রায়। ফলাফল দেখে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থী মোছা. এমেলি আক্তার, আনিছুর রহমান, মোতাউল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তার মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এহেন পরিস্থিতে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তাজহাট থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন ওই শিক্ষিকা। নম্বর কম দেওয়া ও জিডির প্রেক্ষিতে পরদিন শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে বিক্ষোভ করেন। এতে চার শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অ্যাসাইমেন্ট-প্রেজেন্টেশন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই মানসিকভাবে টর্চার করে যাচ্ছেন ওই শিক্ষিকা। আমাদের অন্যান্য সব স্যারের কোর্সে এমনকি বাকি ৭টি সেমিস্টারের রেজাল্ট ভালো থাকা সত্ত্বেও এই শিক্ষিকার একক স্বেচ্চারিতায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফলাফল খারাপ করে
দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীকে আহ্বায়ক, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ এবং রসায়ন বিভাগের প্রধান তানিয়া তোফাজকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে একাডেমিক কাউন্সিল। তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে শিক্ষিকা মৌটুসী রায়কে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি ও ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

তবে অব্যাহতির বিষয়টি সম্পর্কে এখনো অবগত নয় বলে বার্তা২৪.কম-কে জানিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোটুসী রায়।