পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের সনদ জালিয়াতি!



হারুনুর রশিদ, জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম

শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্নাতকোত্তরের সনদ জালিয়াতি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি দারুল ইহসান ট্রাস্ট থেকে ইংরেজি বিষয়ের ওপর স্নাতকোত্তর সনদ জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন ধরে পোগোজ স্কুলে শিক্ষকতা করে আসছেন। কিন্তু উক্ত সনদের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দারুল ইহসান ট্রাস্ট। এছাড়াও একই স্কুলের খণ্ডকালীন এক সহকারী শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তার নামে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া দারুল ইহসান ট্রাস্ট থেকে ২০১১ সালে ইংরেজি বিষয়ে ওপর করা একটি স্নাতকোত্তর সনদ স্কুলে প্রদান করেন। তার সনদের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করলে সনদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দারুল ইহসান ট্রাস্ট কাছে চিঠি পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত ১৮ জানুয়ারি দারুল ইহসান ট্রাস্ট্রের ফিরতি চিঠিতে সনদের ব্যাপারে কোন সত্যতা পায়নি এবং এই সনদ তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইস্যুকৃত নয় বলে জানানো হয়।

আরও অভিযোগ আছে, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম একই স্কুলের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক প্রভাত চন্দ্র বণিককে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। এবিষয়ে প্রভাত চন্দ্র বণিক পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সভাপতি বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার অন্যায় কাজকর্মের প্রতিবাদে অধিকাংশ শিক্ষক পোগোজ স্কুলের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. কামালউদ্দিন আহমেদকে অভিযোগ জানাই। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন। এর কিছুদিন পর তিনি আমাকে ফোন করে বলেন, চাকরি করতে চাইলে আমাকে টাকা দেন, আমি কমিটির কাছে আপনার বিষয়ে সুপারিশ করবো।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, আমি তার কথায় রাজি না হওয়ায় অদ্যাবধি তিনি আমাকে স্কুলে আসতে দিচ্ছে না। এছাড়াও ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস থেকে আমাকে কোনো বেতন প্রদান করা হয় না। কেন বেতন প্রদান করা হয় না এ ব্যাপারে কোন জবাব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে দেয়নি।

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি দারুল ইহসান থেকে সনদ নিয়েছি। এরপর সরকার এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আমি এই সনদ আর ব্যবহার করি না। এটাকে কেনো জাল সার্টিফিকেট বলছে, তাহলে আমাকে দারুল ইহসানে খবর নিতে হবে।

এবিষয়ে পোগোজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, সনদ জাল কিনা তা আমি জানি না, তবে ওইটা যে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির সনদ না, এটা লেখা আছে। তবে এটা যাচাই বাছাই করবে প্রশাসন। ট্রেজারার স্যারের কাছে গেছে, তিনি খতিয়ে দেখছেন।

এবিষয়ে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. কামালউদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পোগোজ স্কুলের সব অভিযোগ আমার কাছে আসছে। আমাকে সময় দিন, দেখেন আমি কি করি।